Saturday, 23 July 2016

কোমরব্যথায় ভয় নেই, তবে...

কেউ হয়তো সারা দিন অফিসের ডেস্কে কাজ করেন, বসে থাকেন কম্পিউটারের সামনে। কেউ আবার পিঠ বাঁকিয়ে বসে গৃহস্থালি কাজ করেন, কেউ ভারী জিনিস বহন করেন। কাজের সময় ভুল অঙ্গভঙ্গির কারণেই হোক, আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণেই হোক, আমাদের প্রত্যেকের কোমরব্যথা হতেই পারে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্রাম, নিয়মিত ব্যায়াম আর দু-একটা ব্যথানাশক সেবনের মাধ্যমে এ যন্ত্রণা কমে যায়। সিংহভাগ কোমরব্যথাই নিরীহ প্রকৃতির, এ নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে ব্যথার নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়, যার সাহায্যে চিকিৎসকেরা ধারণা করেন কোনো জটিলতা আছে। জেনে নিন এমন কিছু লক্ষণ:
  • বিশ্রাম নিলেও ব্যথা উপশম না হওয়া অথবা পিঠ সোজা রেখে শুয়ে থাকা অবস্থায়ও ব্যথা বাড়া
  • ঘুম থেকে ওঠার পর বেশ কিছুক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে প্রচণ্ড আড়ষ্টভাব অনুভব করা
  • কোমরে আঘাত লাগার পর থেকে ব্যথা শুরু হওয়া
  • কোমরব্যথার সঙ্গে দুপায়েও ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
  • বেশ খানিকক্ষণ হাঁটাচলা করলে পা অবশ হয়ে পড়া বা পায়ের মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করা
  • ২০ বছরের কম বয়সী কারও কোমরে ব্যথা হলে কিংবা বয়স্ক ব্যক্তির হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হওয়া
  • পিঠের ওপরের অংশে ব্যথা হওয়া
  • ব্যথার পাশাপাশি শরীরের ওজন হ্রাস, জ্বর, রাতে প্রচুর ঘাম হয়ে জ্বর সারা, পেটে কোনো গোটা বা চাকা অনুভূত হওয়া ইত্যাদি
এছাড়া যদি আগে কখনো যক্ষ্মা বা ক্যানসার অথবা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকে, সে ক্ষেত্রেও কোমরব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

Thursday, 21 July 2016

মাত্র ৩ দিনের মধ্যে ফুসফুসকে পরিষ্কার করার পদ্ধতি

যারা ধূমপান করেন , তাদের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এছাড়া পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কখনোই ধূমপান করেন না , কিন্তু তারপরেও তাদের ফুসফুসে অনেক সমস্যা হতে পারে । সুতরাং আপনি ধূমপান করুন আর নাই করুন , আপনার ফুসফুসে সমস্যা হতেই পারে…..
এজন্য মাত্র ৩ দিনের মধ্যে কীভাবে আপনার ফুসফুসকে পরিষ্কার করবেন । তার জন্য জেনে নিন কিছু পদ্ধতি…..
১ . রাতে ঘুমানোর আগে আপনি ১ কাপ লেবু , আদা , থানকুনি অথবা পুদিনা পাতার চা পান করুন । এই চা পানের মাধ্যমে আপনার দেহ থেকে সমস্ত টক্সিন বের হয়ে যাবে যা দেহের জন্য ক্ষতিকর। এই পদ্ধতি মেনে চলার সময় এমন কোন কাজ করা যাবেনা যা ফুসফুসের ওপরে চাপ প্রয়োগ করে…..

Monday, 6 June 2016

পায়ের রক্তনালিতেও ব্লক হয়

হার্টে ব্লক বা রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হলে রিং পরাতে হয়—এ কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশের রক্তনালিতেও এ ধরনের ব্লক হতে পারে; যেমন পায়ে। এ ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা হয়, পা ফুলেও যেতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে পায়ের রং কালো হয়ে যায়, কখনো কখনো পচন ধরে।
হার্টের ভালভে সমস্যা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ইত্যাদি কারণেও হাত-পায়ের রক্তনালি ব্লক হয়ে যেতে পারে। আবার ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস, রক্তে অতিমাত্রায় চর্বি ইত্যাদি কারণে পায়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্লক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাঁটতে গেলে পায়ে খিল ধরে এবং ব্যথা হয়, বিশ্রাম নিলে কিছুটা কমে। রোগের তীব্রতা বাড়লে বিশ্রামরত অবস্থায়ও ব্যথা হতে থাকে। রক্ত চলাচল কম থাকায় সামান্য আঘাতে পায়ে ঘা কিংবা গ্যাংগ্রিন হয় এবং সহজে সারতে চায় না।
হার্টের মতো পায়েরও এনজিওগ্রাম করা যায়। ডুপ্লেক্স পরীক্ষায় পায়ে ব্লক ধরা পড়লে এনজিওগ্রাম করে রক্তনালির ব্লকের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়।
চিকিৎসা: হার্টের ব্লক দূর করার মতোই পায়ে রিং পরানো যায় বা স্টেন্টিং করানো যায়। আবার বাইপাস সার্জারি করানো যায়, প্রয়োজনে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করে দেওয়া যায়। ইনজেকশন প্রয়োগেরও সুযোগ রয়েছে। তবে পায়ে ব্লক মানেই বার্জাজ ডিজিজ নয়। কেউ কেউ আবার পায়ের রক্তনালির সমস্যাজনিত ব্যথায় অহেতুক ব্যথানাশক ওষুধ খান, এক্স-রে কিংবা এমআরআইয়ের মতো ব্যয়বহুল পরীক্ষা করিয়ে সময় নষ্ট করেন। এতে অকালে অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে। পায়ে হাত দিয়ে পালস বা নাড়ি না পেলে কিংবা স্পন্দন ক্ষীণ অনুভব করলেই বোঝা যায়, রোগীর রক্তনালিতে কোনো না কোনো সমস্যা আছে। সে ক্ষেত্রে সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।